ও মাই ঘড ১

ও মাই ঘড !
বিবাহ যোগ্য যত আইবুড়ো আর আইবুড়ি ছিলো গতকাল সব্বার বিয়ে হয়ে গেলো! ৩টে বিয়ে বাড়ির নেমন্তন্ন এসেছিলো আমাদের বাড়িতে. বাড়ি থেকে বেরিয়ে আরও দুটো বিয়ে বাড়ির দর্শন পেলাম.  ফেসবুক খুলে বুঝতে পারলাম, যদি বলা হয় কাল কে কে বিয়ে বাড়ি যাওনি হাত তোলো, তার থেকে বেশি হাত উঠবে ক্লাস ওয়ানের রুমে গিয়ে ১৭র নামতা বলতে বললে.
সে যাই হোক আজ কালরাত্রি, কাল বৌভাত. বিরাট ভ্যাবাচ্যাকা লাগার দিন হলো এই বৌভাত.
মফস্বলি মিনি তখন সবে সবে অর্কুটে নাম লিখিয়েছি. থার্ড ইয়ার পরীক্ষা তখন হয়ে গেছে. কাজকম্মো কিছু নেই, দিনরাত জি-টক আর অর্কুট. তখন অবধি কনে মানে সোনার গয়না আর  বেনারসিতে মোড়া মেয়ে, আর বর মানে ধুতি পাঞ্জাবী সামলাতে সামলাতে দ্বিতীয়বার বিয়ে না করার পণ নেওয়া পুরুষ --- এইটুকুই বুঝত মিনি.
একদিন দেখলো কেউ এক বৌভাত বাড়ির ছবি আপলোড করেছে. দেখছে ছবিগুলো. বরকে আর কিছুতেই খুঁজে পায়না.  বৌয়ের সঙ্গে  এর তার হাজারো ছবি. আর এক সাহেবি সাজের, মায় টাই পরা ভদ্রলোকের সঙ্গে প্রচুর ছবি. কে এই ভদ্রলোক? বৌয়ের সঙ্গে গাদা গাদা ছবি তুলেছে!  একবার ভাবলো ক্যাটারিংয়ের দায়িত্বে আছে বুঝি! না তাই বা কি করে হয়! ড্রেসটা তো বেশিই দামী মনে হচ্ছে!  তালে কী ? এরকম ফরমাল ড্রেস পরে কে এ ভদ্রলোক? বিসনেস ম্যান?মাল্টি ন্যশনাল কম্পানির ম্যনেজার? চার্চে গিয়ে বিয়ে করার সময় বৌ পালিয়ে যাওয়া বর ? ওফ! মিনির মিনিমাইজড মফস্বলি মাথায় কিছুতেই ঢুকছেনা.  শেষ পর্যন্ত স্থির করলো বিরাট বিসনেস ম্যান... বা মাল্টি ন্যাশনাল কম্পানির পদস্থ ব্যক্তি অফিস থেকে সোজা বিয়ে বাড়ি চলে এসেছে, পোষক বদলানোর সময় পায়নি. 😎
আবার কিছুদিন পর এক বরের ভাই তার দাদার বৌভাতের ছবি আপলোড করেছে. ওবাবা! কোথায় বৌয়ের ছবি আপলোড করবে তা না বরের ছবি আপলোড করেছে গাদা গুচ্ছের!  কিন্তু একি সাহেবি কেতায় সাজা, স্যুট গায়ে চাপানো বর !  তার মানে চার্চে বিয়ে থিমে সেজেছে এরা.  ওহ্! মিনির সে কি উৎসাহ!  এইবার গাউন পরা একপিস বাঙ্গলী বৌ দেখতে পাবে. 
কিন্তু বাঙ্গালী বৌউদের তো এক বছর, নিদেনপক্ষে অষ্টমঙ্গলা পর্যন্ত শাঁখা খুলতে নেই!  তার মানে শাঁখা সিঁদুর সমেত গাউন পরা বৌ !  তাজ্জব ব্যপার !
 টাটা ইন্ডিকমের মোডেম ছিলো মিনির. ফোটন তখন সবে সবে বাজারে এসেছে বা আসেনি. একটা ছবি থেকে আরেক ছবিতে পৌঁছতে যে কতগুলো বৃত্তের ঘূর্ণন দেখতে হয়, তা যারা ইন্ডিকমের
ওই মোডেম ইউজ করেছে তারাই জানে. যাই হোক হেব্বি উৎসাহ নিয়ে বসে আছে মিনি. গাউন পরা বাঙ্গলী বৌ দেখবে.  কি রকম গাউন পরবে ? মার্মেড গাউন? অফ শোলডার গাউন? কি রংয়ের গাউন? সাদা ?লাল ? ওহ্! মিনি আর ধৈর্য ধরতে পারছে না. ওদিকে নেট বার বার কেটে যাচ্ছে. আর মাঝে মাঝে এই সেই তত্ব-মত্ত আতি-পাতি ছবি. যত্তসব !  শেষ পর্যন্ত বৌয়ের ছবি দেখা গেল. কিন্তু একি !!  এতো দিব্যি বেনারসি আর সোনার গয়না পরা বৌ !  ওমা তালে এতো চার্চের বিয়ে থিম নয়. স্পাইসি মেওতে রসগোল্লা চুবিয়ে খাওয়ার মতো ব্যাপার! তেঁতুল গোলা জলে রসপুলি ডুবিয়ে খাওয়ার মতো ব্যাপার !  মিনি বুঝতেই পারল না ও রাগবে নাকি হাসবে. 😇 প্রথমে একচোট রেগে নিল. ছি ছি ছি ছি ! কি কিপটে বর ! নিজের জন্যে টাকা খরচ করে এইসব জামা কাপড় কিনতে পেরেছে, আর বৌয়ের জন্যে একটা গাউন কেনা গেল না ! ছি!  তারপর একচোট হাসলো . ওয়েস্টার্ন বরের পাশে বাঙ্গালী কনের মাখো  মাখো ছবি দেখে.
সাড়ে ছ'বছর কেটে গেছে. এখন এই মিনিমাইজড বুদ্ধিতেও মিনি বুঝতে পারে স্যুট-ফ্যুট পরা ওই তেনারাই আসলে বর. 😎 আর টাকা খরচ বা গাউনের দোকানের অভাবের জন্যে মোটেই নয়. বৌগুলো শাড়ি পরে ট্রাডিশনাল লুকের জন্যে. থিমটা আসলে ককটেল থিম, ওটাই এখন ইন. আর ওগুলোকে মোটেই বৌভাত বলেনা,বলে রীতিমতো রিসেপশন. 😎
পুনশ্চ : যেসব দিদিদের ,বন্ধুদের এই কবছরের মধ্যে বিয়ে হয়েছে, আর যাদের বিয়ে সামনে, বৌভাতের শাড়ি কেনা হয়ে গেছে তারা মোটেই পাত্তা দিও না.  ঠাস করে এক মারতে হয় ওকে.  সবেতেই বাড়াবাড়ি রকমের ঢং করা চাই ! ভারি তো এক মিনি ! ভোঁতাবুদ্ধির চ্যাংড়া গেঁয়ো ভূতি একখানা.
   ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৬

Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

অতঃকিম : ঘোড়ার ডিম ২

আট বছর আগের একদিন

ও মাই ঘড ৭