একটি প্রেমের গল্প
প্রেম করতে হয় প্রেমে পড়তে নেই।
ছোটবেলা থেকে দুম দাম প্রেমে পড়ে যাওয়ার বাতিক ছিলো আমার। বাহাদুর বেড়াল, টিনটিন থেকে শুরু করে আমির খান, হরিহরন..... কার না প্রেমে পড়েছি ! 😍 কেউ না জানুক, আমার ক্লাসমেট ভগবানরা জানেন প্রেমে পড়তে পারার মতো ঠিক ঠাক প্রেম করতে পারার ক্ষমতা ভগা আমায় দেন নি। 😭
গত বছর গ্রীষ্মকালে রোজ ভোরবেলা একটা কাক সজনে গাছের ডালে বসে হাঁক-ডাক শুরু করে দিতো, যতক্ষণ না তার মুখের ওপর জানলা বন্ধ করে দিচ্ছি ততক্ষণ কা কা করে মাথা ধরাতে থাকত। আরেক শালিক সে তো আমার বাথরুমের জানলায় বাঁসা বানাতে শুরু করেছিল। মা তার জড়ো করা কাঠকুটো গুলো সব ফেলে দিয়েছিলো। বিকেল বেলা তার সে কি চিৎকার! বলাবাহুল্য সবটা বুঝতে পারার পর মায়ের ওপর চিৎকারটা নেহাৎ কম করিনি।
তারপর আমার ঘুলঘুলিতে চড়ুয়ের বাঁসা করার প্ল্যানও মা বানচাল করে দিয়েছে। কত্তগুলো প্রেমের গল্প তৈরি হতে হতেও ভেঙে গেছে ! 😞
কিন্তু যে গল্পটা এখনো চলছিলো,সেটা হলো পায়রার গল্প। একতলায় প্রায় ১৮টা মতো পায়রা হল্লাহাটি আর গাদা গাদা পটি করতো। বড়দা অনেক কষ্টে সেগুলোকে তাড়িয়েছে। দোতলায় থাকার সময় আমার জানলার পাশে একটা শেডের ওপর দুটো পায়রা আড্ডা জমিয়েছিলো। তিনতলায় চলে আসার পরও সেই দুটো আমার পিছু ছাড়েনি। আমার জানলার নিচের সানশেডে কখনো বা টয়লেটের পাইপের ওপর বসে গুরর্ গুরর্ করে ডাকে। আরো কিছু সঙ্গীসাথিও ডেকে নিয়ে এসছে। বেশ কিছুদিন ধরেই আমার সঙ্গে ওদের ঝামেলা চলছে। টয়লেটের জানলা খুললেই তার ওপর রাজ্যের কাঠকুটো জমা করবে, আমিও দিনের শেষে সব কাঠকুটো ফেলে দেবো। 😡অনেক দিনের যুদ্ধপর্ব চলছে তো চলছে। আজ তার শোধ নিলো বোধয়। 😞 সারাদিন ঘরে বসে তক্কে তক্কে ছিলাম। যেই বাথরুমে ঢুকবে অমনি হৈ হৈ করে তাড়াবো. 👋👋
আর তা হলে নিদেনপক্ষে সানশেডে বসে গুরর্ গুরর্ করে ডাক শোনাবে।
কিন্তু না তা হলো না। আজ একবারের জন্যেও এলোনা পায়রাগুলো। 😞 একটা চলতে থাকা প্রেমের গল্প দুম করে থেমে গেল।
প্রেমে পড়ার গল্পগুলো বোধয় এভাবেই ভেঙে যায়। আর প্রেম করার গল্পগুলো চলে... চলতে থাকে।
প্রেমে পড়তে থাকা মানুষগুলোর জন্যে দিস্তে দিস্তে আঁতলামি, কবিতার বই, মন খারাপিয়া গান এসবই, কিন্তু ভ্যালেন্টাইনস্ ডের টিঁকন্ত প্রেম, 💏ফুটন্ত গোলাপগুলো 🌹শুধু প্রেম করতে থাকা মানুষদের জন্যেই বরাদ্দ। তাদের প্রেম বছরের পর বছর টিঁকতে থাক।
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৬
ওহ।অসাধারণ।
ReplyDelete