ও মাই ঘড ৬
ও মাই ঘঢ ৬
“দেখি … তোমার গুষ্টিশুদ্ধু সবার কুষ্টি বের করো তো দেখি !”
মোবাইলে লিম্বো খেলতে খেলতে বিরক্ত হয়ে বললাম, “কুষ্টি নিয়ে তুই কী করবি ? তুই
তো সারাক্ষণ ওই জোডিয়াক সাইন না সান সাইন এসব পড়িস খবরের কাগজে! আমি ক্যাপ্রিকর্ণ।”
মিনি ‘মিচ’ করে বলল, “আরে এসবে হবেনা। আসল কুষ্টি চাই নাহলে রোগ নির্ণয় হবে না।”
রেগে গিয়ে বললাম, “ঝেড়ে কাশ তো!”
মিনি এবার গুছিয়ে বসে বলতে শুরু করল, “শোনো, অনেকদিন ধরে তোমাদের বাড়ির সবার শরীর
খারাপ যাচ্ছে। আর তোমার কথা তো বলারই নয় ! তোমাকে যখনই দেখি মনে হয় এ ব্যাটা তো রোগী
নয়, রোগের ডিপো একখানা! সকাল বেলা এসে যখন ডাকি, আড়মোড়া এমন করে ভাঙো মনে হয় হাড়মড়মড়
রোগে জর্জরিত। তারপর উঠতেও চাও না। বিকেলবেলা যখন ফেরো তখন দেখে মনে হয় এই বুঝি ধুপ
করে পড়েই গেলে, বুঝি স্ট্রোক হয়ে অক্কা পাবে এক্ষুনি। সন্ধ্যেবেলা যখনই আসি তখনই দেখি
হয় মোবাইল থেকে মুখ তুলে মাথা ডানদিক বাঁদিক করছ, না হলে ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে মুণ্ডু
ওপর নিচ করছ। তারপর ধর…
চ্যাঁচামেচি না করে শান্ত গলায় বললাম, “ব্যাস হয়ে গেছে ? এবার কেটে পড়। মা কি জলখাবার
বানাচ্ছে খেগে যা।”
মিনি আরও জাঁকিয়ে বসে বলল, “আরে হলো আর কোথায় ! তোমার কুষ্টি ছাড়া আসল রোগ নির্ণয়ই
সম্ভব নয় তো! আর যদি তোমার কাছে কুষ্টি না থাকে তো রাশি লগ্ন গণ নক্ষত্র …
“মিনি অনেক জ্বালিয়েছিস, আর মাথা না খেয়ে যা তো এবার। অনেক কাজ আছে আমার তোর সঙ্গে
আর ভাট বকার মতো সময় নেই। তুই যাবি না কাকিমাকে ডাকব ?”
মায়ের নাম শুনে মিনি একটু দমে গিয়ে বলল, “আরে আন্তত রাশিটা তো বলো! এরম করো কেন
আমার সঙ্গে?”
কাঁচুমাচু মুখ দেখে একটু হেসে বললাম, “মীন রাশি”।
মিনি আবার বেশ উৎসাহের সঙ্গে বলে উঠল, “ও তাই তো ভাবি! এই জন্যেই…. ইউ আর সো মীইইইন!”
বেশ রেগেই গেলাম। কিছু বলার আগে মিনি আবার শুরু করল, “তোমার রোগটা কিন্তু আমি ধরতে
পেরেছি ! এবার শোনো , তুমি মাঝে মধ্যেই একদৃষ্টিতে কোনও একদিকে তাকিয়ে থাকো, চোখের
পলক পড়ে না; হাজার হোক মাছ তো! তোমার মাঝে
মধ্যে বুক ধড়ফড় করে , শ্বাস নিতে কষ্ট হয়; জলের বাইরে রয়েছ কিনা ! কিছুদিন বাদেবাদেই
তোমার ইচ্ছে হয় কোথাও গিয়ে সাঁতার কেটে আসার , আর না পারলেই মন খারাপ। তা থেকেই ডিপ্রেশান…।
তোমায় প্রচুর জল খেতে হবে আর পারলে একটা পুকুর কিনে নিতে হবে। তাহলেই সব রোগ ভ্যানিশ।
এবার গণটা?”
খুব বিরক্ত আর ক্লান্ত লাগছে।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, “দেব গণ”
মিনি কথাটা লুফে নিয়ে প্রায় চেঁচিয়ে উঠল, “এই জন্যেই… এই জন্যেই তোমার দাঁতে ব্যাথা
হয়। আবার বোলো জুবান কেশরী …”
এবার আর বসে থাকতে পারলাম না মিনিকে ধরে দুমদাম চারটে উত্তম মধ্যম কিল চড়। মিনি
নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “স্বয়ং অজয় দেবগন এলেও এরম করত না আমার সঙ্গে।
তুমি পচা। পুরোই পচা। খাবি খাওয়া ছাড়া জীবনে আর কিছুই জুটবে না তোমার। থাকো বেকার বসে,
আর খাবি খাও সারা জীবন। আমি চললাম রাজস্থানে চাকরি করতে।”
“এত জায়গা থাকতে হঠাৎ রাজস্থানে কেন ? ওখানে গিয়ে কি উটের দাঁত মেজে দেওয়ার চাকরি
নিবি নাকি?”
মিনি মুখ বেঁকিয়ে ভেংচি কেটে বলল, “খবরের কাগজে এই দোকান ওই দোকানের ছাড় বাদে অন্য
অনেক কিছু থাকে, হ্যাঁ! রাজস্থানের এক বেসরকারি হাসপাতালে কুষ্টি বিচার করে রোগ নির্ণয়
হচ্ছে, সে খবর রাখো ? আর খবরটা পড়ার পর থেকে আমি শুধু রাশি দেখে রোগ নয়, রোগ দেখে রাশি
নির্ণয়ও করে দিয়েছি।”
“সে আবার কী?”
“বাবাকে সকালে জিজ্ঞেস করলাম বাবার সিংহ রাশি কিনা ? বাবা চমকে গেল। কী রোগ দেখে
নির্ণয় করলাম জানো? প্রথমত, বাবা ফ্রিজের বাসি তরকারি খেতে চায় না; দ্বিতীয়ত, যতক্ষণ
না বাড়ির সব বাজার ফুরিয়ে যাওয়ার পর মা রণমূর্তি ধরছে, বাজারের সামনে থেকে হেঁটে চলে
আসলেও বাজার করে নিয়ে আসেনা। আর কুঁড়েমির কথা তো ছেড়েই দাও। উল্টোদিকে মায়ের…”
আমি থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “আচ্ছা মিনি, তোর কি রাশি ?”
মিনি উত্তর দিল, “কুম্ভ”।
আহা বড় স্বস্তি পেলাম, অনর্থক ভাট বকার মতো আনন্দ আর কিছুতেই নেই। ব্যাটা মিনি
লোকের মাথা খেয়ে নিজে বেশ আনন্দেই থাকে তাহলে! বললাম, “আহারে! তোর হবু রোগটা নির্ণয়
করা সোজা, কিন্তু তোর রাশি অনুযায়ী সারার কোনও সম্ভবনা নেই।”
মিনি বলল, “তাই ? তা রোগটা কী?”
আমি বললাম, “ওবিসিটি। চকলেট আইসক্রিম খাওয়া কমিয়ে আর লাভ নেইরে। কুম্ভ তো… কিচ্ছু
করার নেই।”
Comments
Post a Comment