অতঃকিম : ঘোড়ার ডিম ২
একটা কয়েন রাস্তার ওপর দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ ধারে কাছে ঘেঁষছে না। এমন আশ্চর্য ব্যাপারও ঘটে
ভূভারতে ! কমলা মাসি বাসন্তি হাইওয়ে ধরে সুন্দরবনের
দিকে যাচ্ছিল। ড্রাইভারকে বলল গাড়ি থামাতে। গাড়ি থেকে নেমে কয়েনের দিকে
এগিয়ে গেল। ওমা! একি আশ্চর্য কাণ্ড ! এ তো কয়েন গড়িয়ে যাচ্ছে না! তামার কয়েনটার মধ্যে রয়েছে একটা বাঘ। সেই হেঁটে হেঁটে কয়েনটাকে এগিয়ে নিয়ে
যাচ্ছে। কমলা মাসি বলল, “বুঝিয়াছি কী হেতু মানুষজন তাম্রমুদ্রা
দেখিয়াও ছুটিয়া আসে নাই”। বাঘ কয়েনের মধ্যে থেকে তাকিয়ে এদিক ওদিক মুখ নাড়ানাড়ি করে কিছু বলার চেষ্টা করল, কিন্তু কমলা মাসির কানে কিছুই পৌঁছল না। মাসি বলল, “কিছু কি কহিতে চাহ ? উচ্চ কণ্ঠে উচ্চারণ
করো। আমি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদন হেতু সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করিতেছি। উহাই যদি তোমার গন্তব্য হইয়া থাকে তাহা হইলে তুমি আমার সহিত গাড়িতে উঠিয়া দ্রুত
সেখানে যাইতে পারো। অন্যথায় এমন সার্কাসের রিংয়ের মধ্যে হাঁটিয়া যাওয়ার পন্থাতেও
অগ্রসর হইতে পারো, তাহাতেও আমার আপত্তি নাই”।
বাঘ বেশ কষ্ট করে নড়াচড়া করতে করতে কয়েনের ভেতর থেকে বেরিয়ে
এলো। হুঙ্কারের বদলে হাই তুলতে তুলতে বলল, “তালি নে চ। গাড়িতে উটে বসি। নাকি?” বাঘের কঙ্কালসার করুন অবস্থা দেখে কমলা মাসির খানিক করুনা
হলো। তাকে একটু ভুজিয়া খেতে দিয়ে গাড়িতে তুলে নিল। তারপর গাড়ি স্টার্ট করে জিজ্ঞেস
করল, “তা মহাশয়ের কোথা হইতে আগমন ?” বাঘ চাপা গলায় বলল, “আর কি বলি! কাউকে বলিসনি যেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের লোগো থেকে খুব কষ্টে-শিষ্টে বেইরে পেইলে এইচি”। কমলা মাসি, আঁতকে উঠল, “সেকি কথা!” বাঘ গলা নামিয়ে বলল, “আরে চুক কর রে মা। চুক্ কর”। কমলা মাসি উত্তেজিত হয়ে বললেন, “কিন্তু দ্বাররক্ষী যক্ষদম্পতি দ্বার রুদ্ধ করিয়া তোমাকে বন্দী করিল
না? তাহারাও কি দেশদ্রোহী হইয়া উঠিয়াছে?” বাঘ আবার হাই তুলে বলল, “তা আমার দশা তো
দেকতি পাচ্চিস, নাকি? বাঘ হয়ে মানুষের পাশে বসে ভুজিয়া খাচ্চি। এমন কাংলা দশা যে
শিকার করে খাবার মুরোদটুকুও নি। তারা তো সামান্য যক্ষ। এমনিই খেতি পেতুনি, তার ওপর
আবার তাদের কাচ থেকে ১লাক ৭৬হাজার টাকা বের করে নিল, তারা আর একন কী করবে ! দুজনে
বলাকওয়া করতিছিল, যা টাকা নেচে --- তা বাজেটের থেকে ৯০হাজার কোটি টাকা বেশি। সেই
টাকা দে নাকি একটা কলা বাগান বানানো হবে। যাতে দেশের হনুমানরা স্বাস্থ্যবান হয়”।
কমলা মাসি রেগে উঠে বলল, “নেহাত তুমি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের লোগোয় ৮৫বছর ধরে ঢুকে
বসেছিলে, নইলে ... মানে, তাহা না হইলে এক্ষণে তোমায় গুলি করিয়া মারিতাম। এমনিতে
তোমারা কৃষকদের আত্মহত্যা লইয়া হনুমানের লঙ্কা গমনের থেকেও অধিক লম্ফ ঝম্ফ করিয়া
থাকো। কিন্তু এই যে কলা বাগানের দরুন অসংখ্য কৃষকের কর্ম সংস্থান হইবে তাহা তোমরা
দেখিতে পাওনা। অন্যদিকে কলার পাতা খাইয়া গোমাতাগণ সুস্থ্য সবল বাছুর প্রসব করিবেন
তাহা লইয়াও তোমরা আনন্দিত নহ।” বাঘ আবার হাই তুলে
বলল, “তা সে যদি মারতি চাস, তো মার। আমায় মারলি তো আর জিডিপি বেড়ে যাবে নে,
অটোমোবাইলের ৩লাক কর্মী চাকরি ফিরে পাবেনে, নাই পেট্রোলের দাম কমবে, আর না ডলারের
হিসেবে টাকার দাম ওপরে উঠবে।” কমলা ধমক দিয়ে বলল,
থামো ! ডলারের হিসেবে টাকার মান যত কম হইবে, রপ্তানির ক্ষেত্রে ততই লাভ হইবে”। বাঘ
মাঝে ফুট কেটে বলল, “তা কী রপ্তানি হবে ? কাশ্মীরিরা এখনও শাল বুনতেচে বুজি! ও
বুজিচি। ব্রাজিলকে টেক্কা দে বিপ রপ্তানি হবে। তা ভালো। যাই হোক, লোকে একন বলাকওয়া
করতেচে, মানে মার্কেটে গুজব উটেচে যে, এবার নাকি বাজারে জিওব্যাঙ্ক আসতেচে। আর
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে সেটা মার্জ কইরে দেবে”। বলে বাঘ বেশ খানিকটা হেসে নিল।
কলমা মাসি আরও রেগে গিয়ে বলল, “এসব ট্রোল মিম নিয়ে জীবন কাটালে তো আর আমাদের চলেনা।
আর যদি তেমনটা হয় তো তাতে ক্ষতির কী আছে ? তখন তো আর কেউ কায়দা করে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের টাকা
মেরে দিতে পারবেনা। যত্তসব!” বাঘ হাসতে হাসতে সিটের মধ্যে লুটিয়ে পড়ল। কোনও মতে
বলল, “অনেক রঙ্গ দেখলুম, আর মা দেখতি চাইনা। সুন্দরবনের বাঘ ...ঘরে ফিরে এবার
নিজের মতো থাকি। এদিকি যাই হোক না কেন, ওদিকি তো সেই একই রকম জীবন। কদিন
নাতিনাতনিরা শিকার করে খাওয়াবে, তারপর নিজিই হরিণ, গরু, মানুষ ... নানা মানুষের
ওপর ঘেন্না ধরে গেছে, আরও কিছু শিরদাঁড়াওলা পেরানি মেরে খাব”।
👍👍
ReplyDelete